ইসলামে বিবাহ শুধু জৈবিক বা সামাজিক প্রয়োজন নয়; এটি ভালোবাসা, দয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর প্রতিষ্ঠিত একটি পবিত্র বন্ধন ও ইবাদত। পবিত্র কুরআন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ এই বন্ধনকে এই দুনিয়ার শান্তির নীড় এবং আখিরাতের সুখের সেতু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে।
“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন…” (সূরা রূম, ২১)
ইসলাম নারী ও পুরুষকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক, রক্ষক ও সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে দেখে। বিবাহে ন্যায়, সম্মান এবং সৌজন্য মৌলিক নীতি।
“…তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক…” (সূরা বাকারা, ১৮৭) (এই আয়াত বোঝায় যে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ত্রুটি আড়াল করবে, একে অপরকে রক্ষা করবে এবং পরস্পরের সৌন্দর্য হবে।)
ইসলাম পারিবারিক শান্তি বজায় রাখতে স্বামী ও স্ত্রীর ওপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করেছে। স্বামীর দায়িত্ব হলো হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জন এবং পরিবারকে রক্ষা করা; স্ত্রীর দায়িত্ব হলো পরিবারের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তবে উভয়ের জন্যই মূলনীতি হলো “সুন্দর সহাবস্থান”।
স্বামীকে স্ত্রীর প্রতি সদয়, সহানুভূতিশীল ও উদার হতে হবে। ইসলাম নারীর প্রতি সহিংসতা ও অপমানকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
“…তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণ করো…” (সূরা নিসা, ১৯)
হাদিস: “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করে। আর আমি আমার স্ত্রীদের প্রতি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।” (তিরমিজি)
স্ত্রীও স্বামীর অধিকার রক্ষা করবে এবং পরিবারের সম্মান ও গোপনীয়তা বজায় রাখবে।
হাদিস: “দুনিয়া ভোগের বস্তু, আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হলো একজন নেককার নারী।” (মুসলিম)
বিবাহ বন্ধনের অন্যতম সুন্দর একটি ফলাফল হলো সন্তান লাভ করা। ইসলামে সন্তান হলো বাবা-মায়ের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পবিত্র আমানত। তাদেরকে উত্তম আখলাক ও আদর্শ দিয়ে গড়ে তোলা সমাজ এবং আখিরাত উভয়ের জন্যই একটি বিনিয়োগ।
“…হে আমাদের রব! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান সন্ততি দান করুন যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় এবং আমাদের মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন।” (সূরা ফুরকান, ৭৪)
“কোনো বাবা তার সন্তানকে উত্তম শিক্ষার চেয়ে দামী কোনো উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারে না।” (তিরমিজি)
ইসলামে পরিবার হলো একটি ছোট মসজিদ এবং একটি শান্তিময় আশ্রয়স্থল। যখন একটি ঘরে পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান, ধৈর্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে ভিত্তি করা হয়, তখন সেই ঘর এই দুনিয়াতেই জান্নাতের একটি টুকরো হয়ে ওঠে এবং স্বামী-স্ত্রীকে আখিরাতের চিরন্তন সুখের দিকে নিয়ে যায়। প্রিয় নবী (সা.) যেভাবে বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দিকে ভালোবাসার নজরে তাকানোও একটি সদকা এবং ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।